Top News

বিতর্কের মুখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাকসুর সেমিনার স্থগিত

 

জাকসু আয়োজিত সেমিনারের পোস্টারছবি: সংগৃহীত

বিতর্কের মুখে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) আয়োজিত ‘গণভোট অস্বীকার ও অধ্যাদেশ বাতিলের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রে প্রবেশ এবং সংকটের পথে দেশ’শীর্ষক সেমিনার।

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে জাকসুর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয় যে ফলপ্রসূ আয়োজনের স্বার্থে সেমিনারটি স্থগিত করা হয়েছে। পরিবর্তিত তারিখ শিগগিরই জানানো হবে।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সেমিনারে এবি পার্টির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবু হেনা রাজ্জাকি, ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম, এনসিপির নেতা সাঈফ মোস্তাফিজ ও মনিরা শারমিন, জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান ও বিতার্কিক জাহিদুল ইসলামের আলোচক হিসেবে থাকার কথা ছিল।

গতকাল বুধবার ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম সেমিনারের বিষয়ে প্রচারণা করার পর সহসভাপতি আবদুর রশিদ জিতু অভিযোগ করেন যে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং কোনো আনুষ্ঠানিক সভা করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে আবদুর রশিদ লেখেন, বিষয়বস্তু নির্ধারণ, অতিথি নির্বাচন, বাজেট ও সময়সূচি—কোনো ক্ষেত্রেই জাকসুর সদস্যদের সঙ্গে ন্যূনতম আলোচনা করা হয়নি। এমনকি তাঁকে ও সভাপতিকেও আগাম জানানো হয়নি। জাকসুর মতো একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হলে সব সদস্যের অংশগ্রহণ জরুরি। কিন্তু এখানে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করা হয়েছে, যা সংগঠনের গণতান্ত্রিক চর্চাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

এরপর বিষয়টি নিয়ে পাল্টা অভিযোগ করেন জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম ও সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব। তাঁদের ভাষ্যমতে, সেমিনারের বিষয়ে জাকসুর ভিপির সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছিল এবং তিনি সম্মতি দিয়েছিলেন। পরে তাঁকে অতিথিদের খসড়া দেখানোর জন্য ফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ফেসবুক গ্রুপে এমন পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর মধ্যে সচেতন শিক্ষার্থীর ব্যানারে ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য মোহাম্মদ রুবেলসহ কয়েকজন কর্মী উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের কাছে সেমিনারটি বাতিলের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেন। সেমিনারের একজন অতিথি সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলামও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দেন। এরপর রাতে জরুরি সভা করেন জাকসুর সদস্যরা। সভা শেষে সেমিনারটি সাময়িকভাবে স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

সেমিনারটি স্থগিতের বিষয়ে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, সেমিনারের বিষয়ে সভাপতি ও সহসভাপতি যখন প্রশ্ন তুলেছেন, তখন জাকসুর দ্রুত সভা ডেকে সাময়িকভাবে সেমিনার স্থগিত করা হয়েছে। সবাইকে নিয়ে সুন্দরভাবে শিগগিরই সেমিনার আয়োজন করা হবে।


Post a Comment

Previous Post Next Post